যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান

মোট দেখেছে : 32
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

তানভীর দিপু :

কুমিল্লা নগরীর যানজট নিরসনে এবার ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে প্রশাসন। অভিযানের কারণে সটকে পড়েছে শহরে যাত্রী পরিবহনের অন্যতম বাহন রিকশাগুলো। ব্যাটারি খোয়ানোর ভয়ে রিকশাগুলো এখন আর নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, চকবাজার, পুলিশলাইন্স, রানীরবাজার টমছমব্রীজ এলাকায় ভিড়ছে না। এতে করে নগরীতে সৃষ্টি হয়েছে রিকশা সংকট।

এ যেন কুমিল্লা শহরে নতুন এক ভোগান্তি। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দেখা যায় রিকশার জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীর ভিড়। ইজিবাইক বা সিএনজি অটোরিকশার অপর্যাপ্ততার কারণে অনেকে হেঁটেই রওনা হয়েছেন গন্তব্যে। কেউ বা আবার দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন মিনিটের পর মিনিট। গতকাল দুপুরে কুমিল্লা নগরীর প্রতিটি মোড়েই এই দৃশ্য দেখা যায়।

চকবাজার থেকে রানীর বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া আমেনা বেগম কোলে শিশু নিয়েই রিকশা বা ইজিবাইকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন কাপড়িয়াপট্টি এলাকায়। তিনি জানালেন, রকশা সংকটের কারণে চকবাজার থেকে সব ইজিবাইক সব সিটেই যাত্রী নিয়ে আসছে। মাঝপথ থেকে উঠার কোনো উপায় নাই। প্যাডেল রিকশার সংখ্যাও কম, তাই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কান্দিরপাড় থেকে শাসনগাছাগামী ব্যবসায়ী আল-আমিন বললেন, যানজট নিরসনে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু হুট করে রিকশা ধড়পাকড়ের কারণে প্যাডেল রিকশায় বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। তাই ভাড়া নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণামতো কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ গতকাল একাধিক জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পুলিশের সহযোগিতায় নগরীতে অবৈধভাবে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে সেগুলোর ব্যাটারি খুলে নেয়া হয়। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব সাঈদ জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার আগে মাইকিং করেই জানানো হয়েছিলো। যারা নির্দেশনা মানেনি, তাদের রিকশা থেকেই ব্যাটারি খুলে রেখে দেয়া হয়েছে। নগরীতে যানজট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি একটি যা এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রিকশা কমে যাওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ জানান, যানবাহনের ভাড়া নিয়ে কাজ করছেন কুমিল্লা সিটি মেয়র। তিনি অচিরেই ভাড়ার বিষয়ে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত এবং সময়োপযোগী ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করবেন। এছাড়া ইজিবাইক এবং সিএনজি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণেও খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে অভিযানে আটক হওয়া রিকশার ব্যাটারি খুলে নেয়ায় বিপদে পড়েছেন অনেক চালক। রাস্তা থেকে হেঁটে ঠেলেই রিকশা নিতে হয়েছে গ্যারেজে। এদিকে যারা নিজের কেনা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা পড়েছেন আরো বিপাকে। ব্যাটারি খুলে নেয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে রোজগার। ইলেকট্রিক ব্যাটারি থেকে রিকশা প্যাডেলে রূপান্তরিত করতে খরচ হবে বাড়তি টাকা। এই নিয়েও হাহুতাশ করতে দেখো গেছে রিকশাচালকদের।

তবে যানজট নিরসনে প্রশাসনের এই উদ্যোগে সাধুবাদ জানিয়েছেন কুমিল্লা নগরবাসী। স্কুল-কলেজ খোলার আগেই ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি নগরবাসীর।

আরো দেখুন

সর্বশেষ ফটো